DUCSU LPR


সংবিধান ও স্বদেশী আইনবিজ্ঞান


Feb 21, 2020

Shares: 23



আমরা সংবিধান ব্যাকুল জাতি। পরীক্ষায় অকৃতকার্য সন্তানের বাবার দুঃখের মতন সংবিধান নিয়ে আমাদের নানান আক্ষেপ। কানা তার চোখের কথা বারবার বলে। আমরাও তাই। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটা নতুন দেশ গঠন আখেরে একটা স্বজাত সংবিধান পাবার আকাঙ্খার সাথে জড়িত। বাঙালি তা পেয়েছে ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে। এরপর থেকে প্রায় পাঁচ দশকের পদযাত্রায় অনেক সাংবিধানিক সিকস্তি-পয়স্তি আমরা দেখেছি।

আমাদের সংবিধান চর্চা মূলত ইংরেজিতে। বাংলা পাঠ মাঝে মাঝে ছাই ফেলতে ভাঙা কুলোর মতন কাজে লাগে। তবুও ১৯৭২ সালে একটা সংবিধান নিজেদের করে পাবার ফলে উপস্থিত তিনটি অর্জন আমাদের হয়েছিলো: এক. প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষায় রচিত একটা সংবিধান আমরা পেলাম; দুই. "শাসনতন্ত্র" যুগ পেছনে ফেলে আমরা "সংবিধান" নামায় আত্মস্থ হলাম; এবং তিন. স্বল্পতম সময়ে অনেকদিক বিবেচনায় একটা সুসংহত সংবিধান আমরা পেলাম। এরপরও সংবিধানের বাংলা এবং ইংরেজি মুসাবিদা নিয়ে আলাপ-বিলাপ কম হয় নাই। সংবিধান বানানি প্রক্রিয়ায় এবং সেটির বোধের অগ্রগামিতায় বাংলা ভাষার স্থান নিয়ে আমাদের মধ্যে একটা অপরিপুষ্ট অথচ সূক্ষ্ম বাহাস রয়ে গেছে।

আমাদের সংবিধান নাকি আগে ইংরেজিতে মুসাবিদা করা হয়েছিলো, তারপর এর বাংলা অনুবাদ করা হয়। এ অনুতাপ থেকে নাকি অনেকটা যেচে ১৫৩ অনুচ্ছেদে লেখা হয় যে, সংবিধানের দুইটি নির্ভরযোগ্য অনুমোদিত পাঠ থাকবে এবং বাংলা ও ইংরেজি অর্থের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে বাংলা অর্থ প্রাধান্য পাবে। এ নাকি এক আত্মপ্রবঞ্চনা! এ অনুযোগ ঘটনার অতি সরলীকরণ ঠ্যাকে। ড. কামাল হোসেন সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে খসড়া বিধানগুলো ইংরেজিতে লেখা হয় বটে, তবে পূর্ণাঙ্গ মুসাবিদা বাংলায় প্রস্তুত করে, তবে ইংরেজিতে চূড়ান্ত করা হয়। তাছাড়া গণপরিষদে বাংলা পাঠ উত্থাপন করা হয়।

সেই ১৯৮৯ সালেই এক বক্তব্যে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান (আইনবিষয়ক প্রবন্ধাবলী, মাওলা ব্রাদার্স, ২০১২) বাংলা আগে না ইংরেজি আগে এই বিতর্ককে অমূলক ঠাওরেছেন। সাংবিধানিক এবং আইনি ধারণা বাংলা পরিভাষায় বিনুনি করতে আগে ইংরেজিতে প্রতিষ্ঠিত ধারণাগুলোর একটা কাঠামো করে নেয়া লাগতো। সেটাই এক্ষেত্রে করে নিতে হয়েছে। বাংলা ইংরেজির এই সন্মিলনকে বিচারপতি রহমান "কানুনি কল্পনা" (Legal Fiction)-র মহত্তম ব্যবহার বলে ভাবতে চেয়েছেন। ব্যাপারটা আমার মনে ধরেছে। হানিমুনকে যদি আপনি তর্জমায় মধুচন্দ্রিকা ডাকেন তবে কোন শব্দটা বেশি মুগ্ধতা ছড়ায়? এতো ভাবনার শুদ্ধতার ব্যাপার! সত্য কী? —তমসার তীরে উদ্বিগ্ন বাল্মীকি। রামায়ণের কাহিনি ভেবে ফেলেছেন। কিন্তু পাছে সত্যভ্রষ্ট হন, এই ভয় তাড়া করে ফিরছে। এমনই এক সময়ে তাঁর সঙ্গে দেখা হল নারদের। বাল্মীকি-নারদের সেই সাক্ষাৎ দৃশ্যে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, "নারদ কহিলা হাসি, 'সেই সত্য যা রচিবে তুমি, ঘটে যা তা সব সত্য নয়', 'কবি, তব মনোভূমি রামের জন্মস্থান, অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো'।"

আবুল মনসুর আহমদ তাঁর আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (প্রথমা, ২০১৭) বইয়ে সংবিধানের বাংলা কিছু পরিভাষার সমালোচনা করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণগুলো বেশিরভাগই আমার কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। যেমন তিনি "Executive"-এর বাংলা নির্বাহী বিভাগ করবার পক্ষপাতি নন, কিন্তু আইনের তালেবে এলেম মাত্রই জানবেন "শাসন"(Government) বলতে রাষ্ট্রের আইন, বিচার, নির্বাহী বিভাগকে একসাথে বুঝায়। কাজেই "Executive" -এর বাংলা আবুল মনসুর আহমদ-এর মতে "শাসন" বললে তা দ্বিধার জন্ম দিতো। তেমনিভাবে, সংসদের ইংরেজি "পার্লামেন্ট" লিখলে নাকি ইংল্যান্ডের "পার্লিয়ামেন্টারি সভরেন্টির" ধারণা আমাদের ভর করবে! বিচারিক যাচাই (Judicial Review)-এর বিধান থাকায় তা হয়নি, বলা-ই বাহুল্য। বাংলা পরিমার্জনের আরো কিছু সৃষ্টিশীল কাজ বাজারে দেখা যায় (সাখাওয়াৎ আনসারী, বাংলাদেশের সংবিধান: ভাষা সংশোধন প্রস্তাব, মুক্তবুদ্ধি প্রকাশন, ২০১৬)। এসব প্রস্তাবে অনেকক্ষেত্রে ন্যায্যতা আছে বৈকি!

সংবিধানে বিভিন্ন ইংরেজি শব্দের/প্রকাশের একই বাংলা (যেমন : পেশ করা:- "shall be submitted", "cause it to be laid") অথবা একই ইংরেজি শব্দের বিভিন্ন বাংলার (যেমন: revoke:- রদ, প্রত্যাহার) ব্যবহার দেখা যায়। স্বয়ং বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণিত: "Unitary" রাষ্ট্রের বরাতে বাংলাদেশকে একটি "একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্রের" স্থলে বাংলাদেশ একটি "একরাজ্য, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র" বললে বেশি মানাসই হয় বলে মন্তব্য করেন। তেমনিভাবে, "Republic"-এর বাংলা "গণপ্রজাতন্ত্র", সেক্যুলারিজম-এর বাংলা "ধর্মনিরপেক্ষতা" যথেষ্ট উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিচারপতি গোলাম রাব্বানী সেক্যুলারিজম এর বাংলা "লোকায়ত" লেখেন (বাংলাদেশ সংবিধানের সহজ পাঠ, সমুন্নয়, ২০০৮)। কিছু রেওয়ায়েতে দাবি করা হয় (আবুল মনসুর আহমদ, প্রথমা, ২০১৭) যে, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদির মতো তাত্ত্বিক বা দার্শনিক ধারণা সংবিধানে থাকা উচিত নয়। এতে বিতর্ক কমে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দুটো কারণে গ্রহণযোগ্য নয়, এক. উল্লিখিত ধারণাগুলো ধারণামাত্র নয়, সেগুলো যেমন লক্ষ্য তেমনি অর্জনের উপায়ও, দুই. সেগুলোর মুগ্ধকর সংজ্ঞা সংবিধানে দেয়া ছিল, যা সামরিক কাঁচির খোঁচায় পরবর্তীতে বাদ দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হয়।

একটু ঘেটে দেখলে দেখা যায়, সংবিধানের বাংলা পাঠ নিঃসীম সৌন্দর্যেও ভরপুর। শত দৃষ্টান্তের ভিড়ে কয়েকটি উল্লেখ করছি: "জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি" (প্রস্তাবনা), "মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খা" (প্রস্তাবনা), সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত (অনুচ্ছেদ ৪), "বিকৃতি, বিনাশ, বা অপসারণ" (অনুচ্ছেদ ২৪), "রক্ষণ, সমর্থন, নিরাপত্তা বিধান" (প্রস্তাবনা), "সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার" (প্রস্তাবনা), "জাতীয় মুক্তির জন্যে ঐতিহাসিক সংগ্রাম" (প্রস্তাবনা), "স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ" (প্রস্তাবনা), "দণ্ডের বিরাম, বিলম্বন ও মার্জন" (অনুচ্ছেদ ৪৯), "বরখাস্ত, অপসারিত, পদাবনমিত" (অনুচ্ছেদ ১৩৫), "নৈতিক স্খলন" (অনুচ্ছেদ ৬৬), "সমফলপ্রদ বিধান" (অনুচ্ছেদ ১০২), "সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি" (অনুচ্ছেদ ১০২) ইত্যাদি। শব্দের পিঠে শব্দ বিন্যাসিত হয়ে এক ভাষার "শোভাযাত্রা" তৈরী করেছে সংবিধানের বাংলা পাঠ। সন্নিবেশিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ এবং মৌলিক অধিকারগুলো পড়লে এটা টের পাওয়া যায়।

ড. মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ (৪৯ ডিএলআর ১, ১৯৯৭) মামলায় বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান "Aggrieved Person"-এর বাংলা তর্জমা "সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি" থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, সংক্ষুব্ধতায় ব্যক্তির বৈষয়িক ক্ষতির পাশাপাশি মনস্তাত্বিক উপাদানও নিহিত রয়েছে। তাই জনস্বার্থে একজন ব্যক্তি অন্যজনের ব্যথায় দুঃখিত হয়ে আদালতে রিট করতে আসতে পারেন। ফজলুল হক চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ মামলায় (২৭ ডিএলআর ৬১) এক ব্যক্তির চাকরিচ্যুতি সংক্রান্ত মামলায় প্রশ্ন উঠে যে, "that action"-এর বাংলা হিসেবে "প্রস্তাবিত ব্যবস্থা" যায়না। হাইকোর্ট এই দাবি খারিজ করেন এবং বলেন যে, এদের মধ্যে পার্থক্য নেই, এবং যদি থেকেও থাকে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে। ওসমান গনি বনাম মঈনুদ্দিন আহমেদ মামলায়ও আদালত বাংলা পাঠের প্রাধান্য কবুল করেন (৩০ ডিএলআর ১৪৪)।

১৯৮৭ সালে বাংলা প্রচলন আইন পাশ হবার পরে আমাদের আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় একটা চলন ঘটেছে। কিন্তু সেখান থেকে আমরা বিশেষ কিছু আদায় করতে পারিনি। বাংলাদেশে আইন এখন বাংলায় লেখা হয়। আমাদের সাংবিধানিক আইনের প্রধান পুরোহিত মাহমুদুল ইসলাম (মাওলা ব্রাদার্স, ২০০৯) লেখেন: "এখন দেখার বিষয় আইন ব্যাখার ইংরেজি নিয়ম আমাদের বিচারকবৃন্দ বাংলায় কেমন করে আত্মীকরণ করেন।" তাঁর এই উদ্বেগের সাথে আমার সায় আছে। ইসলাম আরো লেখেন: "বাংলা অভিধান ইংরেজি থেকে কম সমৃদ্ধ"। এ কথা অবশ্য মেনে নেবার নয়। আমরাতো মানবিক অনুভূতিকে শব্দের খরায় কম করে প্রকাশ করিনা। অপ্রকাশটাও একরকম প্রকাশ। আমাদের আইনি কাঠামোকে ওই 'অপ্রকাশ'-টাকে ছুঁতে জানতে হবে। বিচারপতি হাবিবুর রহমানকে আবার ধার করি: "প্রবচনে জাহাঁবাজ গৃহকর্ত্রী হিসেবে খ্যাত আইনের আপত্তি থাকার কথা নয় শব্দ চর্চায়। শব্দ দুর্দিনের বড় আশ্রয়। নিঃসঙ্গ অবসরে শব্দ হতে পারে এক দারুন আমুদে সহপাঠী। স্বর্ণ শব্দের অনুসিন্ধানে একটা মৃগয়ার আমেজ রয়েছে। শব্দের অর্থ, গূঢ়ার্থ বা নির্গলিতার্থ নির্ধারণ এবং কূটার্থ প্রয়োগকে বাধাদান আদালতের একটা কর্তব্যকর্ম। আবার শব্দের সীমানা পেরিয়ে সৃষ্টিধর্মী রচনা যেমন নতুন ব্যঞ্জনার দিগন্ত উন্মোচন করে, তেমনি আইনের ক্ষেত্রে দৃশ্যত অবিচারের প্রতিকারের জন্যে শব্দের সীমানা অতিক্রম করে আদালত ইনসাফ বা ইকুইটির জন্ম দেয় (রহমান, ১৯৮৯)।"

আমাদের সংবিধানের ডালায় ও নকশায় রয়েছে শিল্পাচার্যের তুলির আঁচড়, নমস্য বাংলা অধ্যাপকের সৃষ্টিশীল মনন, ভাষার সাহিত্যিক ও পন্ডিতদের প্রজ্ঞার প্রয়োগ, রবীন্দ্রনাথের গানের কলি, মহত্তম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতের পরশ ও স্বাক্ষর। এতে যারা বাঙালিয়ানা খুঁজে পাননা তাদেরকে বড়জোর আমরা করুণা করতে পারি। স্বীকার্য যে, তিনটা কারণে বাংলায় আমাদের সংবিধান চর্চা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। প্রথমতঃ সামরিক ফরমান দিয়ে করা পরিবর্তনগুলোর ক্ষেত্রে ইংরেজির প্রাধান্য স্থাপিত হয়, যেটা ছিল আমাদের সাংবিধানিক সংস্কৃতির উপর স্থায়ী চপেটাঘাত।

দ্বিতীয়তঃ সংবিধানকে মানুষের হাতে পৌঁছতে দেয়নি সামরিক সরকারগুলো। বিশেষ করে বাংলা সংবিধানের সলতে জীবন পুণ্য করে মানুষের হাতে জ্বলেনি তেমন। আদালতের উঠান, বিচারক-আইনজীবী, ক্ষমতাসীনরা সংবিধানকে নিজেদের একচ্ছত্র সম্পত্তি হিসেবে ভেবেছেন। মানুষ এখানে, সংবিধান নিয়ে কথা বলে ঠিকই, কিন্তু সংবিধানে কি আছে তা কেউ তেমন জানার প্রয়োজন মনে করেনা। ১৮২৫ এর রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ-এর "ডিসেম্বর জাগরণ" এক চুটকি মনে পড়লো। জার আলেক্সন্ডার-এর বিদায়ের পরে তাঁর সন্তান কনস্টান্টাইন এবং নিকোলাস এর মধ্যে ক্ষমতায় আসা নিয়ে "সিপাহী-জনতার বিপ্লব" হয়। কনস্টান্টাইন-এর সমর্থকরা একটা সাংবিধানিক প্রবর্তনা চাচ্ছিলেন। তাই উচ্চ পর্যায় থেকে সিপাহী-জনতাকে "কনস্টান্টাইন" ও "কনস্টিটিউশন" (রাশিয়ান ভাষায় কনস্টিটুটস্যুয়ে)-এর নাম করে স্লোগান দিতে বলা হয়েছিল। তাদের যখন জিজ্ঞেস করা হলো তাঁরা কিসের স্লোগান দিচ্ছেন, জবাবে সিপাহী-জনতা জানালো তাঁরা কনস্টান্টাইন ও তাঁর স্ত্রী "কনস্টিটুটস্যুয়ে" -এর মঙ্গল কামনা করে স্লোগান দিচ্ছেন! আমাদের মানুষজনকে অনেকটা ওই ধরনের সাংবিধানিক ঘুমপাড়ানি মাসিপিসির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

তৃতীয়তঃ আমাদের উচ্চ আদালতের আইনজীবী ও বিচারকদের যথাক্রমে বাংলায় আর্জি ও যুক্তি উপস্থাপন এবং রায় লেখার প্রতি অনীহা বিদ্যমান। হয়তো আইনব্যাখ্যার পাথেয় হিসেবে তারা এমনটি করতে চান। ইংরেজি পাঠের ব্যবহারিক অনুমোদন এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। বোধ করি, বিচারপতি হাবিবুর রহমান এই খেদেই জিজ্ঞেস করেন, "ইংরেজি-হাঁটা পথের মায়ায়, আত্মবিশ্বাসের অভাবে না পরিশ্রমবিমুখতার জন্যে কি কেবল একটি পাঠে, বাংলা পাঠে, আমরা ভরসা পাইনি?" সলিমুল্লাহ খান (বিচারপতি হাবিবুর রহমানের মহাপ্রস্থানের পরে, ২০১৪) অবশ্য বিচারপতি হাবিবুর রহমান-ই কেন নিজে থেকে বাংলায় রায় লিখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাননি সে প্রশ্ন তোলেন। কাজী এবাদুল হক, এবিএম খায়রুল হক প্রমূখ বিদগ্ধ বিচারপতিগণ দুই একটি রায় বাংলায় লিখে আমাদের ধন্য করেছেন।

প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। আমরা বাংলাদেশের জনগণ সমবেতভাবে আমাদের জন্যে এই সংবিধান নিয়েছি। হাসমত উল্লাহ বনাম আজমিরী বিবি মামলায় (১৯৯১) আদালত দুঃখজনকভাবে বলেন যে, আদালতের ভাষা রাষ্ট্র ভাষার অর্থের মধ্যে পড়েনা। দেশীয় আইনবিজ্ঞানের অন্ধবিন্দু তৈরিতে এমন ধারণা থাকলে আর কিছু লাগেনা। আমার কথা হলো ইংরেজি পাঠ আমরা বাদ দিতে পারবোনা। কারণ নমস্য কমন ল' বিচারপতিদের প্রজ্ঞা আমাদের ইশারায় শিস দিয়ে ডাকে। কিন্তু মানুষের রক্ত, ঘাম, অশ্রু দিয়ে লেখা সংবিধানের চর্চা, পঠন-পাঠন, গঠন-গাঁথন বাংলায় না হলে স্বদেশী আইনবিজ্ঞান হবেনা। দেশপ্রেমের একটা দিক হওয়া উচিত বাংলা সংবিধানকে ভালোবাসা। স্মর্তব্য যে, সংবিধানের উপরে গণপরিষদে দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, "এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্খার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।"



Tags : International Mother Language Day , Mother tongue , Home grown Constitutional Jurisprudence , Autochthonous Constitution




Dr. S M Masum Billah is an Associate Professor of Law at the Jagannath University, Bangladesh. He completed his PhD from Victoria University of Wellington, New Zealand