DUCSU LPR


সুলতান মাহমুদ (২০১৮). বিশ্ব রাজনীতি: অতীত ও বর্তমান, ঢাকা, বাংলাদেশঃ আলেয়া বুক ডিপো


Apr 11, 2020

Shares: 26



যেকোনো দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ের উপর মানুষের আগ্রহের কোনো কমতি থাকে না। আবার সেটি যদি হয় পুরো বিশ্বের তাহলে আগ্রহের পারদ যে সর্বোচ্চ বিরাজমান করবে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। আর রাজনীতি এমন একটি বিষয় যেটি সম্পর্কে যুগ যুগ ধরে মানুষের আগ্রহ ও বিতর্কের কোনো শেষ নেই। এ যেন এক এমন গোলক ধাঁধা যেটির কোনো সমাধানে আসা দুষ্কর। বিশ্ব রাজনীতির অতীত ও বর্তমান নিয়েই ড. সুলতান মাহমুদ রচিত একটি বই "বিশ্ব রাজনীতি: অতীত ও বর্তমান"। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুলতান মাহমুদ বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে যেমনি বর্ণনা করেছেন, তেমনি তিনি তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনাও করেছেন। ফলে যারা রাজনীতি নিয়ে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য বইটি যেমন জ্ঞানভান্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তেমনি জ্ঞান আহরণের উদ্দীপনা সৃষ্টিতেও অত্যন্ত সহায়ক।

সুলতান মাহমুদ রচিত "বিশ্ব রাজনীতি: অতীত ও বর্তমান" বইটি ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং বইটি মূলত ষোলটি অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রত্যেকটি অধ্যায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। যেমন: রুশ-জাপান যুদ্ধ এবং ঐতিহাসিক পটভূমি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল, স্নায়ুযুদ্ধ: উৎপত্তি, বিকাশ ও অবসান, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ, রোহিঙ্গা সমস্যা: অতীত ও বর্তমান, কাশ্মীর সংকট: প্রেক্ষাপট ও অগ্রগতি ইত্যাদি।

প্রথম অধ্যায়ে মূলত বিশ্বরাজনীতির পূর্বকথন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কীভাবে উপনিবেশ তৈরি হলো, কারা করলো এসব বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে এই অংশে। এছাড়া ১৭শ-১৮শ শতকের শিল্প বিপ্লব (ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব, আমেরিকান রেভল্যুশন, ফরাসি বিপ্লব ও ভারত) পরিবর্তনের নতুন ধাপ, বিভিন্ন যুদ্ধ এবং বিপ্লব, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব, একদলীয় শাসন ব্যবস্থার উত্থান, গণতন্ত্র, ১২১৫-২০১৭ পর্যন্ত শীর্ষ ঘটনাপঞ্জী, সহস্রাব্দের সেরা ২০ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়টি সাজানো হয়েছে রুশ ও জাপানের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধের পটভূমি দিয়ে। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার এই যুদ্ধের মূল কারণ ছিল মাঞ্চুরিয়া ও কোরিয়া এই দেশ দুইটির বিপরীতমুখী সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ। এই যুদ্ধে দুই পক্ষের লক্ষাধিক সৈন্য নিহত হন এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এই অধ্যায়ে চীন-জাপানের মধ্যকার ১৮৯০-১৮৯৫ সালের যুদ্ধ, রুশ সম্প্রসারণ, বক্সার বিদ্রোহ, পোর্ট আর্থারের যুদ্ধ, ইয়ালু নদীর যুদ্ধ, পীত সাগরের যুদ্ধ, মুকদেনের যুদ্ধ ও সুশিমার যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার পীত সাগরের যুদ্ধ ছিল ইস্পাতের তৈরি আধুনিক যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে প্রথম যুদ্ধ। এই যুদ্ধসমূহ মূলত কোরিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল। সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাভিলাস যে কতটা ভয়ংকর মর্মান্তিক ফলাফল বয়ে আনতে পারে- এই যুদ্ধগুলোই তার সাক্ষী।

তৃতীয় অধ্যায়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও তার ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে গ্রেট ওয়ার বা ইউরোপিয়ান ওয়ার বা ওয়ার অব দ্যা ন্যাশনস হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয় যেটি ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই থেকে ১৯১৮ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। এই যুদ্ধের সেন্ট্রাল পাওয়ার্সের নেতৃত্বে ছিল জার্মানি, অস্টিয়া ও অটোম্যান সাম্রাজ্য এবং মিশ্রশক্তির নেতৃত্বে ছিলো ফ্রান্স, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। এই যুদ্ধটি সংঘটিত হওয়ার পিছনে যেসব কারণ উল্লেখযোগ্য সেগুলো হলো-সার্বিয়ান জাতীয়তাবাদ, ব্রিটেন ও জার্মানির নৌযান প্রতিযোগিতা, ১৮৭১ সালের যুদ্ধে জার্মানির কাছে ফ্রান্সের হার, ব্রিটেন ও রাশিয়ার মৈত্রীচুক্তি ইত্যাদি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দেড় কোটি মানুষ নিহত ও প্রায় দুই কোটি মানুষ আহত হয় এবং প্রায় ১৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রত্যক্ষ ও ১৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরোক্ষভাবে খরচ হয়।

চতুর্থ অধ্যায়ে রুশ বিপ্লব, সোভিয়েত পতন এবং বর্তমান বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কিত বিষয়গুলো স্হান পেয়েছে। রুশ বিপ্লব বা অক্টোবর বিপ্লব বা বলশেভিক বিপ্লব মূলত লেলিন ও ট্রটস্ফির নেতৃত্বে ১৯১৭ সালে সংঘটিত একটি বিপ্লব যাতে অংশ নেয় প্রায় ১০ লক্ষ শ্রমিক। মূলত বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবই অক্টোবরের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটায়। এই রুশ বিপ্লব হয়েছে কয়েকটি ধাপে। যেমন ব্লাডি সানডে, লেলিনের নেতৃত্ব, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ইত্যাদি। এই বিপ্লবের ফলে নিরক্ষরতা দূরীকরণ, সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, জমিদারি প্রথার বিলুপ্তি, বিনা খরচে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, বেকারত্ব দূরীকরণ, মহিলাদের সমানাধিকার ইত্যাদির সূত্রপাত ঘটে। এই রুশ বিপ্লব কে বলা হয় পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব।

পঞ্চম অধ্যায়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত "লীগ অব নেশনস"-এর ব্যাপারে আলোকপাত করা হয়েছে। কান্ট, বেনথাম, হেগেল, রুশো, সেইন্ট সাইমন প্রমুখ দার্শনিক আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যে স্হায়ী শান্তি স্হাপনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, লীগ অব নেশনস তারই প্রতিফলন। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত প্রায় সকল ধনী রাষ্ট্রগুলোই এই সংস্থার সদস্য হয়। লীগ অব নেশনস এর পাঁচটি প্রধান অঙ্গ ছিলো- সাধারণ সভা, পরিষদ, দপ্তর, আন্তর্জাতিক বিচারালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। কিন্তু ১৯৪৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে লীগের বিলুপ্তি ঘটে। এই বিলুপ্তির পিছনে মূলত হিটলারের আগ্রাসন এবং লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, লীগের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি, লীগের কোনো আন্তর্জাতিক পুলিশ বাহিনী না থাকা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অসহযোগিতাকেই দায়ী করা হয়।

ষষ্ঠ অধ্যায়ে মানব ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্য যুদ্ধ "দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ" সম্পর্কে প্রতিফলন এবং আলোচনা করা হয়েছে। ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করলে জার্মানির প্রতি তোষণ নীতি ত্যাগ করে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে ১৯৩৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর যুদ্ধ ঘোষণা করে যা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়। এই যুদ্ধে অক্ষশক্তির পরাজয় ঘটে এবং ৭ কোটি মানুষ ও সেনাসদস্যদের প্রাণহানি ঘটে।

সপ্তম অধ্যায়ে আমরা স্নায়ুযুদ্ধ বা কোল্ড ওয়ার সম্পর্কে জানতে পারি। এটিকে মতাদর্শের যুদ্ধও বলা হয়। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন চেয়েছিল সমতান্ত্রিকতার প্রসার আর যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল পুঁজিবাদের প্রসার। তাদের এই দ্বন্দ্ব শুধুমাত্র সামরিক দিক থেকেই ছিলো না; রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। নানারকম হুমকি, গোয়েন্দা তৎপরতা, মহাকাশ গবেষণা ইত্যাদিও এই দ্বন্দ্বকে আরো বেগবান করে। কিন্তু ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এর পতনের পর এই যুদ্ধ শেষ হয় এবং মার্কিন সাম্রাজ্যের প্রসার ব্যাপ্ত হয়।

অষ্টম অধ্যায়ে জাতিসংঘের গঠন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবদান সম্পর্কে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে। আমরা সবাই জানি যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয় জার্মানির পতনের মধ্য দিয়ে। এরপর পরই ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর চীন, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও স্বাক্ষরকারী অন্যান্য দেশের অনুমোদনে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ১৩৬তম সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে জোগদান করে। তখন থেকেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাথে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে এবং বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধপীড়িত দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে সৈন্য প্রেরণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে এবং বিশ্বব্যাপী প্রশংসাও কুড়িয়েছে।

বিভিন্ন দেশের সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিশ্বব্যাপী এক প্রগতিশীল পদক্ষেপ হলো ১৯৬১ সালের জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন যার সূচনা হয় বেলগ্রড শীর্ষ সম্মেলনে। এই জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন নিয়েই পরবর্তী অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এরপর দশম অধ্যায়ে সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবসময়ই মধ্যপ্রাচ্য উল্লেখ্যযোগ্য স্হান দখল করে আছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের তেলের খনি ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যের জন্য বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী দেশের লোলুপ দৃষ্টি ছিলো এর উপর। এই অধ্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যের অবস্হান ও গুরুত্ব, মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপট, মুসলিম শাসনামল, বিংশ শতাব্দীর মধ্যপ্রাচ্য কেমন ছিলো, ইসরায়েল-মার্কিন সম্পর্ক ও কাতার ইস্যু নিয়ে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে।

একাদশ অধ্যায়ে আমরা দেখতে পাই রোহিঙ্গা ইতিহাস, তাদের আগমন, মায়ানমার সরকারের সাথে তাদের দ্বন্দ্বের পর্যায়ক্রমিক বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আশার ধারাবিবরণ। বর্তমানে দশ লক্ষের উপর রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করলেও তাদের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান যে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক অস্থিরতা বিরোধী, পরিবেশগত সমস্যা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে টানাপোড়নে যে ভূমিকা পালন করবে তা বোঝাই যাচ্ছে।

বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে যে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ তা নিয়েই দ্বাদশ অধ্যায়টি সাজানো হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ২৫,৬০২ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অনুযায়ী বাংলাদেশ পেয়েছে ১৯,৪৬৭ বর্গ কিলোমিটার এবং ভারত পেয়েছে ৬,১৩৫ বর্গকিলোমিটার।

ত্রয়োদশ অধ্যায়ে মূলত ব্রেক্সিট ইস্যু, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ এর বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হালচাল, ব্রেক্সিটের পর বাংলাদেশ-ব্রিটেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ইউরোর প্রভাব ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে আমরা দেখতে পাই দেশগুলো তাদের অস্ত্রের উন্নয়নও সাধন করার চেষ্টা করছে। এই বিষয়টি নিয়েই চতুর্দশ অধ্যায়টি সাজানো হয়েছে। ভারত বনাম পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র বনাম রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র বনাম চীন, উত্তর কোরিয়া বনাম দক্ষিণ কোরিয়া, ইসরায়েল বনাম ইরান এদের মধ্যকার যে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা সেগুলিই এই অধ্যায়ে প্রতিয়োমান হয়েছে।

পঞ্চদশ অধ্যায়ে বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে চীন যে নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং নিকট ভবিষ্যতে যে তারাই বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে থাকবে তা নিয়েই এই অধ্যায়টি। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিরোধ কাশ্মীর সংকট নিয়ে ষোড়শ অধ্যায়টি রচিত হয়েছে। কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান-চীনের বিরোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বর্তমানে চলছে বিশ্বায়নের স্লোগান। বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক যাত্রায় গণতন্ত্র অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসনব্যবস্হা হলেও নানা কারণে তা ব্যর্থ হতে চলেছে। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে যে ধরণের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে বিশ্ব ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিলো ঠিক সেই ধরণের সংকট একবিংশ শতাব্দীতে না থাকলেও ভিন্ন এক ভয়াবহতা বিশ্বব্যবস্হাকে আক্রান্ত করছে। ক্রমাগত উত্তপ্ত এই বিশ্বব্যবস্হার অতীত এবং সমসাময়িক ঘটনাসমূহের তাত্ত্বিক ও পর্যবেক্ষণমূলক বিশ্লেষণ এই গ্রন্থে স্হান পেয়েছে। তাই আমি মনে করি বিশ্ব রাজনীতিকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে চাইলে পাঠকদের এই বইটি পড়া উচিত।



Tags :




Sakin Tavir is a third year student at the Department of Criminology, University of Dhaka. His research interest lies in the criminal justice system of Bangladesh.