DUCSU LPR


১৯৫৪-র নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা


Apr 24, 2020

Shares: 6



পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার পক্ষে সাধারণ জনগণের মাঝে যে General Willবঙ্গবন্ধু জন্মাতে পেরেছিলেন ১৯৫৪ সালের নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর বিভিন্ন পদক্ষেপ ছিল এর প্রথম সূচনা। পন্ডিত মহলে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা কী ছিল সেই আলাপ অল্পই পাওয়া যায়। এই প্রবন্ধে মূলত ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের স্বরূপ নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর অবদান পর্যালোচনা করতে হলে আমাদের শুধু এই বছরের ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নিলে হবে না কারণ বঙ্গবন্ধুর ‘সাপোর্ট বেজ’ ১৯৫৪ সাল- একটি বছরে গড়ে উঠে নি। বরং এর আগে ও পরের নানা ঘটনা এবং বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ড ও চিন্তাধারাকেও প্রাধান্য দিতে হবে। এখানে বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনের আগে দলকে সংগঠিত করার উপায়, তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণা চালানো, এবং নির্বাচন পরবর্তি ইশতেহার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কেনো এবং কিভাবে বঙ্গবন্ধু এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেছিলেন তা দেখানোর চেষ্টা করা হবে।

অল্পবয়স থেকেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রতিভার প্রকাশ ঘটতে থাকে তবে পঞ্চাশের দশক তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের কাল। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেন দূরদর্শীতা এবং প্রজ্ঞাসম্পন্ন এক কুশলী রাজনৈতিক নেতা। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান অভিমত দেন যে- “তাত্ত্বিক না হলেও বঙ্গবন্ধুর সুনির্দিষ্ট কিছু আদর্শ ছিল, মূল্যবোধ ছিল, লক্ষ্য ছিল এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তিনি একনিষ্ঠভাবে এবং নিরলস কাজ করেছেন”। তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই আমরা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারা উপলব্ধি করতে পারি। আর এই কথার বরাতও মেলে মাত্র তিনটি বাক্যেই যেখানে বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মপরিচিতি ও মূল্যবোধ অত্যন্ত পরিষ্কার করেছেন। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র প্রথমেই বঙ্গবন্ধু লিখেছেন:

‘একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্প্রীতির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে’।[১]

এই আত্মপরিচয় থেকেই আমরা উপলব্ধি করতে পারি তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারার চারটি বৈশিষ্ট্য: বাঙালি জাতিসত্তা, জনসম্প্রীতি, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সমাজতন্ত্র। ১৯৪০ সালে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দান করলেও সংগঠনটির কট্টরপন্থী প্রকৃতির কারণে ১৯৪৩ সালে বঙ্গবন্ধু যোগ দেন বেঙ্গল মুসলিম লীগে। এখানে পাঠকদের একটা জিনিস বলে রাখা শ্রেয় যে, বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই জনমানুষের সাথে মিশে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতেন, জনমানুষের নানা দাবির পক্ষে আন্দোলন করতেন, এবং ফলশ্রুতিতে কারাবরণ করতেও দ্বিধা করেননি। উদাহরস্বরূপ, ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি কারাবরণ করেন। তবে সে সময় তিনি যে শুধু ভাষার অধিকার নিয়েই সংগ্রাম করেছেন তা নয়, গরিব এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে থেকে অন্যায়–অবিচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদী আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকায় যোগ দিয়েছেন, ”> যেমন কর্ডন প্রথার[২] বিরুদ্ধে, জিন্নাহ ফান্ডের বিরুদ্ধে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীদের সমর্থনে। যার দরুন পূর্ব থেকেই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ‘তৃণমূল পর্যায়ে সাপোর্ট বেজ’ গড়ে উঠতে থাকে।

অনেক সময়ই যারা বড়মাপের নেতা হন, তাঁরা জনগণের সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত হন না। তাঁরা জনগণকে কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনার কথা বলেন। তাঁরা অনেক সময় থেকে যান জনগণের ঊর্ধ্বে। বঙ্গবন্ধু এর ব্যতিক্রম। তিনি সব সময় বাংলাদেশের জনসাধারণের সঙ্গে নিজেকে এক করে দেখতেন। তাই তিনি বারবার একদিকে তাঁর জনগণের জন্য ভালোবাসা এবং অন্যদিকে জনগণের তাঁর জন্য ভালোবাসার কথা উল্লেখ করতেন। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারা শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতাকেন্দ্রিক ছিল না, সাধারণ মানুষের সমস্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা গড়ে তুলেছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর নতুন দল গঠনে তার এই দর্শনের প্রতিফলন পাওয়া যায়। মুসলিম লীগের পুনর্গঠনের কাজেও বঙ্গবন্ধু নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করেন। আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন:

‘মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠান পূর্বে ছিল খান সাহেব, খান বাহাদুর ও ব্রিটিশ খেতাবধারীদের হাতে, আর এদের সাথে ছিল জমিদার, জোতদার শ্রেণির লোকেরা। এদের দ্বারা কোনো দিন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হতো না। শহীদ সাহেব ও হাশিম সাহেব যদি বাংলার যুবক ও ছাত্রদের মধ্যে মুসলিম লীগকে জনপ্রিয় না করতে পারতেন এবং বুদ্ধিজীবী শ্রেণিতে টেনে আনতে না পারতেন, তা হলে কোনো দিনও পাকিস্তান আন্দোলন বাংলার কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারত না।’[৩]

এরই প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন বিকালে ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে গঠিত হয় নতুন একটি রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরবর্তীতে সেই দলের নাম পরিবর্তন হয়ে হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তবে বঙ্গবন্ধুর অন্য জায়গায় আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পক্ষে যে যুক্তি ছিল তা হলো:

‘আর মুসলিম লীগের পিছনে ঘুরে লাভ নেই, এ প্রতিষ্ঠান এখন গণবিচ্ছিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে...বিরোধী দল সৃষ্টি করতে না পারলে এ দেশে একনায়কত্ব চলবে।’[৪] >/p>

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে বঙ্গবন্ধু সবসময়ই নেতা হিসেবে নয় বরং পশ্চিমা শোষক গোষ্ঠীর হাত থেকে এই পূর্ব বাংলার মানুষকে মুক্তি দেয়ার কথা সবসময় ভাবতেন। যার দরুন ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। নির্বাচনের আগের ঘটনাও এটাই প্রমাণ করে।

ঘটনা প্রবাহে জামালপুর মহকুমায় দলের প্রথম সভা থেকেই শামসুল হক সাহেবের সাথে মাওলানা সাহেবের মনোমালিন্য শুরু হয়। পরে আরমানীটোলায় দলের বিরাট সভায় শেষ বক্তা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে লিয়াকত আলী খানের উদ্দেশ্যে মিছিল বের করা হয়। এজন্য দলের বড় নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মাওলানা সাহেব যাদের কার্যকরী কমিটির সদস্য করেছিলেন তাদের মধ্য থেকে বার-তেরোজন ভয়ে পদত্যাগ করেন। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকও এডভোকেট জেনারেলের চাকরি নিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। এসময় কয়েকজন ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আর তেমন কেউ থাকে না। বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫১ সালের শেষ দিকে ঢাকা জেলে নিয়ে আসার পরে অসুস্থ থাকায় জেল কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে রাখেন। ছাত্রলীগ নেতারা শেখ মুজিবের সাথে গোপনে হাসপাতালে দেখা করেন। বঙ্গবন্ধু তাদের সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করতে বলেন।

একটানা প্রায় আড়াই বছর জেলে কাটানোর পরে ছাড়া পেয়ে আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় শেখ মুজিবকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। মাওলানা ভাসানী ও শামসুল হক তখন জেলে ছিলেন। পরে পার্টির ওয়ার্কিং কমিটির সভা আহ্বান করার পরে শেখ মুজিব জেলায় জেলায় সভা ও সংগঠন দৃঢ় করার কাজে নেমে পড়েন। এখানে লক্ষণীয় যে, বঙ্গবন্ধু ধীরে ধীরে রাজনীতিতে প্রধান ভূমিকায় চলে আসেন। সোহরাওয়ার্দীর পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থান, ফজলুল হকের পেশায় ফিরে যাওয়া ও অন্য দল গঠন, এবং ভাসানী ও শামসুল হকের অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের মূল ভূমিকা পালন করেন। পরে পিকিং এ অনুষ্ঠিত শান্তি সম্মেলন থেকে ফিরে পল্টন ময়দানে বিরাট জনসভার আয়োজন করে জেলা উপজেলা ছাড়াও দেশের শতকরা সত্তর ভাগ ইউনিয়ন কমিটিও গঠিত হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সভার আয়োজন শুরু হলে কাউন্সিলে মাওলানা ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৫৩ সালের মাঝামাঝিতে সাধারণ নির্বাচন ঘোষনা করা হয়। শেরে বাংলা পুনরায় মুসলিম লীগে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের একটা গ্রুপ হক সাহেবের সাথে যুক্তফ্রন্ট করতে আগ্রহী হয়। ভাসানী হক সাহেবের আওয়ামী লীগে আসতে আপত্তি না করলেও তার সাথে কিছুতেই যুক্তফ্রন্ট না করার উপর স্থির ছিলেন কারণ মুসলিম লীগ থেকে যারা বিতাড়িত হয়েছিলেন তারাই তার সাথে তখন যোগ দিয়েছিল। ওয়ার্কিং কমিটির সভায় বেশির ভাগ সদস্যই যুক্তফ্রন্টের বিরুদ্ধে মত দেন।

তখন শেখ মুজিব সহ বেশির ভাগ সদস্যই যুক্তফ্রন্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। শেখ মুজিব বলেন দেশে আওয়ামীলীগ ছাড়া আর কোন দল নেই। যুক্তফ্রন্ট করা মানে কিছু মরা লোককে বাচিয়ে রাখা। শহীদ সাহেব এবং ভাসানী সাহেবও যুক্তফ্রন্টের ঘোর বিরোধী ছিলেন। যুক্তফ্রন্ট হবেনা এ সিদ্ধান্তের পর শহীদ সাহেব পাকিস্তান যান। তখন বঙ্গবন্ধু জেলায় জেলায় সভা করে বেড়ান। আর এদিকে ঢাকায় বসে মাওলানা ভাসানী শেরে বাংলার সাথে যুক্তফ্রন্ট সই করে ফেলেন। যেখানে আওয়ামী লীগ একক ভাবে জিততে পারত সেখানে নেজামে ইসলাম পার্টি, কৃষক শ্রমিক পার্টি ও গনতান্ত্রিক দল সহ বিভিন্ন নামের সংগঠন যুক্তফ্রন্টের নামে মনোনয়ন দাবি করতে লাগল। যারা দিনরাত খেটেছে আওয়ামী লীগের জন্য এমন লোক নমিনেশন পেলনা, মাত্র তিন চার মাস আগেও মুসলীম লীগে ছিল এরকম লোক নমিনেশন পেয়ে যায়।

এদিকে নির্বাচন দিতে পাকিস্তান শাসকরা রাজি হলে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ইশতেহারে যে ২১ দফা দেয় তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, পশ্চিমা শোষক গোষ্ঠীর কাছ থেকে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক মুক্তিই ছিল এর মূল বিষয়বস্তু। যেমন ২১ দফার প্রথম দফা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দান; তাছাড়াও শিক্ষার উন্নয়ন, কৃষির উন্নয়ন এবং পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন। বঙ্গবন্ধু প্রথম থেকেই বাংলা ভাষা ও বাঙালি সাংস্কৃতিক সত্ত্বা জাগ্রত করতে সচেষ্ট ছিলেন। পূর্ব বাংলার পূর্ণ স্বাধীন রাজনৈতিক সত্ত্বা- তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতিফলন দেখা যায় তার উপস্থাপিত ৬ দফায়।

১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭ টি আসনের মধ্যে ২২৩ টিতে বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করে যার মধ্যে ১৪৩ টি আসনেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জয় লাভ করেছিল। শেখ মুজিব গোপালগঞ্জে আসনে ১৩,০০০ ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করেন। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল শক্তিশালী মুসলিম লীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামান। ৩৪ বছর বয়সে তরুণ শেখ মুজিবকে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেয়া হয়।

১৯৫৫ সালের মে মাসে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। গণপরিষদের এক বক্তৃতায় তিনি বাঙালির স্বকীয়তা এবং বাঙালিদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

‘ওরা পূর্ব বাংলা নামের পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তান নাম রাখতে চায়। আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছি আপনারা এটাকে বাংলা নামে ডাকেন। বাংলা শব্দটার একটা নিজস্ব ইতিহাস আছে, আছে এর একটা ঐতিহ্য।...বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে গ্রহণ করার ব্যাপারে কি হবে? যুক্ত নির্বাচনী এলাকা গঠনের প্রশ্নটারই কি সমাধান? আমাদের স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কেই বা কি ভাবছেন?...আমার ঐ অংশের [পশ্চিম পাকিস্তান] বন্ধুদের কাছে আবেদন জানাব যে আমাদের জনগণের রেফারেন্ডাম অথবা গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া রায়কে মেনে নেন।’[৫]

পরবর্তীতে আমরা দেখতে পারি যুক্তফ্রন্ট সরকার স্থায়ী না হতে পারলেও বঙ্গবন্ধু ঠিকই জনগণের নেতা হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফায় ও যুক্তফ্রন্টের ইশতেহারে এর পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়। যার ফলেই ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে ভরা ডুবি হয় পাকিস্তানি শাসকদের। সুতরাং ১৯৭১, ১৯৭০, বা ১৯৬৯ এর পটভূমিতে বঙ্গবন্ধুর যেমনটা নেতৃত্বে সফলতা দেখা যায় তেমনি একই ভাবে ১৯৫৪ এর নির্বাচনেও তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আর এই সফলতার মুখ তিনি দেখেছিলেন তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও এই বাংলার জনমানুষের অধিকারের জন্য জীবনব্যপী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায়।

রেফারেন্সঃ

১। শেখ মুজিবুর রহমান, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, ঢাকা, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ২০১২, পৃ I

২। ১৯৪৭-১৯৪৮ সালে খাদ্য সমস্যা দেখা দিলে সরকার এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ধান কাটতে যাওয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যা কর্ডন প্রথা নামে পরিচিত।

৩। আত্মজীবনী, পৃ ৩৫

৪। আত্মজীবনী, পৃ ১২০

৫। আত্মজীবনী, পৃ ২৯৪



Tags :




Shawon Talukdar is a valedictorian from the Department of Political Science, University of Dhaka. He is a reviewer of University of Toronto Journal of Political Science (UTJPS) from fall 2018 and also an editor of DUCSU LPR.