DUCSU LPR


যুক্তরাজ্য সাধারণ নির্বাচন ২০১৯ঃ সরকার গঠনের অনুমতি পেলেন বরিস জনসন


Dec 14, 2019

Shares: 15



গত ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল। মোট ৬৫০ টি আসনের মধ্যে সরাসরি ভোটে ৩৬৫টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে প্রস্তুত কনজারভেটিভ পার্টির নেতা বরিস জনসন। অন্যদিকে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে ২০৩ টি আসন নিয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের মুখোমুখি হয়েছে ইউকে লেবার পার্টি। ৫৯টি আসনে অংশগ্রহণ করে ৪৮টিতে জয়লাভ করে হাউজ অফ কমন্সের তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়েছে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি(এসএনপি)। আগেরবারের চাইতে ১টি আসন কম নিয়ে মাত্র ১১টি আসনে জয় পেয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টি(লিব-ডেম)।

এ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে দ্বিতীয় গণভোট এড়িয়ে যাবার মতো সংখ্যাগরিষ্টতা লাভ করল কনজারভেটিভ পার্টি। উল্লেখ্য, মার্গারেট থ্যাচারের আমলের পর এত ব্যবধানে আর কখনোই হাউজ অফ কমন্সের নির্বাচন জেতেনি কনজারভেটিভ পার্টি। নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এ জয়কে “ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য এক শক্তিশালী ম্যান্ডেট” হিসেবে অভিহিত করে “কোনরকম যদি, কিন্তু, হয়তো ছাড়া ৩১শে জানুয়ারিতেই” ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্তকরণের বিল পাস করানোর দৃঢ় সংকল্পের কথা জানিয়েছেন বরিস জনসন। জানিয়েছেন ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে ঝুঁকির মুখে পড়া স্বাস্থ্য খাতসহ অন্যান্য বিষয়ে তার দলের আশু পরিকল্পনার কথা।

নির্বাচনের অন্যপ্রান্তে ভোটের ফলাফলে হতাশ করবিন-সমর্থকেরা। ১৯৩৫ সালের পর এটিই লেবার পার্টির সবচেয়ে বড় হার। তবে ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় জেরেমি করবিন জানিয়েছেন এ মুহূর্তেই তিনি দলের নেতৃত্ব ত্যাগ করছেন না। বরং তিনি নির্বাচনে নিজেদের ইশতেহার নিয়ে নিজের সন্তষ্টির কথা জানিয়েছেন, আশু কনজারভেটিভ সরকারের শাসনামল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন “এই নির্বাচনটিতে ব্রেক্সিট-পরবর্তী একতার বদলে ব্রেক্সিট নিয়ে বিভাজনের রাজনীতিই জয়লাভ করেছে।“ লেবারের এহেন ভরাডুবিতেও দলের হয়ে পাশ করেছেন ৪ বাংলাদেশি-বংশোদ্ভুত নারী প্রার্থী। গতবারের মতো এবারও নিজ আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন রুশনারা আলী, রুপা হক এবং বঙ্গবন্ধু-দৌহিত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। নতুন মুখ হিসেবে জয়লাভ করেছেন টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক মেয়র মনির উদ্দিন আহমেদের মেয়ে আফসানা বেগম।

এদিকে ব্রেক্সিটের বিপক্ষে সমর্থন বাড়াতে না পেরে এবারও আসন হ্রাস পেল জো সুইনসনের নেতৃত্বাধীন লিব-ডেম এর। উপরন্তু নিজ আসনে হেরে দলের দায়িত্ব থেকেও পদত্যাগ করেছেন তিনি। অন্তবর্তীকালীন নেতা হিসেবে আপাতত লিব-ডেমের নেতৃত্বে আসছেন এড ডেভি এবং স্যাল ব্রিনটন।

অপরদিকে ৪৮টি আসন নিয়ে গতবারের মতো এবারও তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবে নিজেদের আসন পাকাপোক্ত করে অচিরেই স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠানের সংকল্প প্রকাশ করেছেন স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (এসএনপি) নেত্রী নিকোলা স্টার্জিয়ন। লিব-ডেম এর মতো এসএনপি ব্রেক্সিটের বিপক্ষে মত দিলেও স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য থাকা নিয়ে স্কটল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতকে অগ্রাধিকার দেয়ার ফলে এসএনপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

যদিও বরিস জনসন জানিয়েছেন এ প্রশ্নে গণভোটের কোন পরিকল্পনা তাঁর নেই, তবুও স্কটল্যান্ডের ক্ষমতাসীন দল হিসেবে স্কটল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ সরকারের অধীনে গণভোট অনুষ্ঠানে এসএনপি-এর কোন বাঁধা নেই- এবং তারা সে পথেই এগুচ্ছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৪৫ শতাংশ ভোটার স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন।

এসব হিসেব-নিকেশ জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের মাধ্যমে রাণি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে সরকার গঠনের অনুমতি পেয়েছেন বরিস জনসন।

লিখেছেন ডাকসু ল' এন্ড পলিটিক্স রিভিউ এর ওয়াসি তামি



Tags :